অন পেজ এসইও কি ? বিস্তারিত

অন পেজ এসইও কি ? বিস্তারিত,

অন পেজ এসইও কি ? কিভাবে অনপেইজ এসইও করবেন? বিস্তারিত জানতে পুরো বিষয়টি মনোযোগের সহিত পড়ুন। তাহলে আশা করছি আপনি অনপেজ এসইও’র সম্পর্কে আপনার জ্ঞান বাড়বে।

আমরা যারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করে থাকি বিশেষ ভাবে যারা ওয়েবসাইট কেন্দ্রিক কাজ করি তাদের জন্য অনপেজ এসইও অত্যন্ত গুরুপ্তপূর্ণ্য । কেননা অন পেজ এসইও ছাড়া কোন ওয়েবসাইে র‌্যাংক সম্ভভ নয়।

আমার সুদীর্ঘ অনলাইন ক্যারিয়ারে আমি লক্ষ করছি যে কোন ব্যক্তি যদি কোন একটি ওয়েবসাইট শুধুমাত্র অনপেজ এসইও 100% করে তবে সে ফাস্ট পেজে র‌্যাংক পাবে। এমন টি কন্টেন্ট কোয়ালিটি সব সাইট স্ট্রাকচার ভাল হলে ফাস্ট পেজের 8/10 নং সিরিয়ালে র‌্যাংক পেতে পারে। কিন্তু টপে আসতে পারে না। সেক্ষেত্রে অফপেজ এসইও’র প্রয়োজন হয়।

আমি অনপেজ এসইও কে বেশি প্রাধান্য দেই। কারন আমি পরিক্ষামূলক দুটি ওয়েবসাইট শুধুমাত্র অনপেজ এসইও করে র‌্যাংক করতে সক্ষম হয়েছি। তো চলুন জেনে নেয়া যাক আমি কিভাবে অনপেজ এসইও করি।

অন পেজ এসইও কি ?

একটা সময় ছিল অন পেজ এসইও সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। শুধু কন্টেন্ট এর মধ্যে বারবার কিওয়ার্ড ব্যবহার করলেই গুগল ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক দিয়ে দিত। গুগল ধীরে ধীরে নানা ধরনের আপডেট ও এলগরিদম চেঞ্জ করার পরে সেই দিন আর নেই। এখন শুধু কন্টেন্ট পাবলিশ করলেই হয় না। সেটা শতভাগ অন পেজ এসইও অপটিমাইজেশন করতে হয়। তবেই র‌্যাংক করা সম্ভব হয়।

কোন ওয়েবসাইটে যে কন্টেন্ট গুলো থাকে সেগুলোকে ইউজার ও সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করাকেই অন পেজ এসইও বলে।

অন পেইজ এসইও কিভাবে করতে হয়?

আমি প্রথমে কি টপিক নিয়ে কাজ করব সেটি ঠিক করে সে বিষয়ে বেশ কিছু কিওয়ার্ড রিসার্চ করে রাখি। কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পর একটি ডোমেইন নেম পছন্দ করি। এরপর ওয়েবসাইট টিকে প্রস্তুত করি।

রিসার্স করা কিওয়ার্ড গুলো দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে কন্টেন্ট লিখি সাথে অন পেইজ এসইওর কাজ করি। অন পেইজ এসইওতে যে বিষয়গুলো দরকার হয় তা আমি পর্যায়ক্রমে উল্লেখ্য করছি:

কোয়ালিটি কন্টেন্ট:

গুগল কোথাও বলেনি যে সাইটে কত পরিমান কন্টেন্ট থাকলে সাইটকে র‌্যাংক করাবে কিন্ত এটা বলেছে যে কোয়ালিটি ফুল তথ্য বহুল আর্টিকেলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কন্টেন্ট লেখা শেষ করে আপনি নিজেকে ইউজার বা পাঠক হিসেবে পাঠক হিসেবে কল্পনা করুন এবং পুরো কন্টেন্ট টি পড়ুন। পর্যালোচনা করুন।

কোন বিষয়ে সার্চ করলে সবচেয়ে বেশি তথ্য যে ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে আপনি সেই ওয়েবসাইটকেই বেশি পছন্দ করবেন। ঠিক এই কাজটি গুগলও করে। সে পাঠকের কথা চিন্তা করে সবচেয়ে ভাল কোয়ালিটি এবং তথ্যবহুল কন্টেন্ট তৈরী করুন।

যে বিষয়ে কন্টেন্ট লিখবেন আগে গুগলে সে বিষয়ে সার্চ দিন। প্রথম পেইজে টপে থাকা আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে হবে। সেগুলো কত শব্দে আছে । তাদের চেয়ে বাড়িয়ে বিস্তারিত লিখতে হবে। সেই কন্টেনগুলোর ইনফরমেশনের সাথে আরো কি কি যোগ করা যায় সেই জায়গাটায় কাজ করতে হবে।

যদি বেশি কম্পিটিশন আছে এমন কোন কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে কমপেক্ষ দুই থেকে আড়াই হাজার শব্দের আর্টিকেল লিখতে হবে। মনে রাখবেন তথ্যবহুল বড় পোস্ট লিখলে গুগল দ্রুত র‌্যাংক দেয়।

বর্তমানে গুগল ছোট ছোট বিক্ষিপ্তভাবে কোন ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক দেওয়ার চেয়ে কোন অথরিটি সাইটকে র‌্যাংক দিতে পছন্দ করে। কারণ গুগল ইউজার ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট এর কথা চিন্তা করে যে ওয়েবসাইট কোন টপিকে অনেকগুলো ভাল আর্টিকেল প্রকাশ করে তাদের প্রথম পেইজে র‌্যাংক দেয়।

কিওয়ার্ড রিসার্চ:

কোন কন্টেন্ট লেখা শুরু করার আগে অবশ্যই মূল কিওয়ার্ড ও LSI কিওয়ার্ডগুলো কি জানতে হবে। এরপর সেই কিওয়ার্ড সম্বলিত সমস্ত তথ্য সেই কন্টেন্টে লিখতে হবে।
সেই কন্টেন্ট এর শিরোনাম লেখার মধ্যে সেই কিওয়ার্ডটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে।

আপনি Rank Math বা Yoast SEO প্লাাগিনে এই কিওয়ার্ডটিকে ফোকাসড কিওয়ার্ড অপশনে সিলেক্ট করে দিলে গুগল বুঝতে পারে আপনি কোন কিওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেলটি র‌্যাংক করতে চাচ্ছেন।

কিওয়ার্ড ব্যবহার:

আপনার সিলেক্ট করা কিওয়ার্ড অন পেইজ এসইওর জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কিওয়ার্ডটি আপনাকে কয়েকটি জায়গায় ব্যবহার করতে হবে। তবে ঘন ঘন প্রতিটি বাক্যে নয়। আর্টিকেলের প্রথম প্যারায় একশ শব্দের মধ্যে এই কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করতে হবে। এটি মেটা টাইটেল, ইউআরএল ও ডেসক্রিপশনে ব্যবহার করতে হবে। মেটা টাইটেল ৬০ শব্দের মধ্যে হতে হবে। তবে মেটা টাইটেল H1 ট্যাগে রাখলে ভাল হয়।

পোস্টের টাইটেল অপটিমাইজেশন অন পেইজ এসইও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কন্টেন্ট এর টাইটেল দেখেই মানুষ আগ্রহী হয় কন্টেন্টটি পড়ার জন্যে। তাই টাইটেলের শুরুতে অবশ্যই কিওয়ার্ড রাখতে হবে।

কিভাবে পেজ টাইটেল অপটিমাইজ করবেন:​

টাইটেলের শুরুতে মেইন কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে, মূল কিওয়ার্ডটি পোস্টের শুরুতে থাকবে, পোস্ট টাইটেল ৬০ শব্দের বেশি হবে না, টাইটেলে প্রধান কিওয়ার্ড একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না, টাইটেল অর্থবোধক হতে হবে, টাইটেলে হাইফেন ও ব্র্যাকেট ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে, টাইটেলে পাওয়ার ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।পাওয়ার ওয়ার্ড গুলো যেমন helpful, guide, best, top, review এই শব্দগুলো টাইটেলে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে পাঠক ক্লিক করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ইউআরএল পোস্ট নেম অনুযায়ী সেট করতে হবে। ইউআরএল সংক্ষিপ্ত হতে করতে হবে। গুগল ছোট ইউআরএলগুলো পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে Yoast SEO প্লাাগিনের ব্যবহার করতে পারেন। পোস্টে পার্মালিংক যদি কিওয়ার্ডসহ ব্যবহার করা যায় তাহলে গুগল সার্চে সেটি আগে আসতে সাহায্য করে। তাই যেমন তেমন ভাবে url ব্যবহার করা যাবে না।

কিভাবে Permalink ব্যবহার করবেন:​

মেইন কিওয়ার্ড url এ রাখতে হবে, কিওয়ার্ডসহ ছোট করে url লিখতে হবে, url অর্থবোধক হতে হবে, শব্দের মাঝখানে হাইফেন ব্যবহার করতে হবে, সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে কন্টেন্ট এর মধ্যে কিওয়ার্ড এর ব্যবহার যেন বেশি না হয়। কন্টেন্ট এর মধ্যে প্রয়োজনের বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করাকে বলা হয় কিওয়ার্ড ডেনসিটি। যদি আপনার কন্টেন্ট হয় ১০০০ শব্দের এটাতে ৫-10 বার কিওয়ার্ড ব্যবহার করার অর্থ হলো আপনার কিওয়ার্ড ডেনসিটি ৫/10%।

কন্টেন্ট এর মধ্যে যাতে কিওয়ার্ড স্টাফিং বেশি না হয়ে যায় সে জন্যে রিলেটেড কিওয়ার্ড ও LSI কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। এই কিওয়ার্ড গুলো H1, H2, H3 ট্যাগে ব্যবহার করতে হবে। গুগল এই ট্যাগ গুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়।

কিভাবে ট্যাগ ব্যবহার করবেন:

H1 এ টাইটেল ব্যবহার করতে হবে, একটি পোস্টে শুধুমাত্র 2/3 H1 ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে, LSI ও সিমিলার কিওয়ার্ডগুলো H2 ট্যাগে রাখতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ সাব হেডিংকে H2 ও H3 ট্যাগের মধ্যে রাখতে হবে#মেটা ডেসক্রিপশন লিখতে হবে ১৬০ শব্দের মধ্যে। আপনার কন্টেন্ট এর ইমপ্রেশন বৃদ্ধির জন্যে মেটা ডেসক্রিপশন খুব ভাল কাজ করে।

মেটা ডেসক্রিপশন ভাল হলে একজন পাঠক সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার ব্যপারে বেশি আগ্রহী হয়।কন্টেন্ট এর টপিকের সাথে মিল রেখে কিওয়ার্ড ব্যবহার করে মেটা ডেসক্রিপশন লিখতে হবে।

কিভাবে মেটাডেসক্রিপশন লিখবেন:​​

মেটা ডেসক্রিপশনে কিওয়ার্ড রাখতে হবে, ১৫০-১৬০ বর্ণের মধ্যে মেটা ডেসক্রিপশন লিখে শেষ করতে হবে, কিওয়ার্ড অকারণে ব্যবহার না করে অর্থবোধক বাক্য লিখতে হবে, টাইটেল থেকে মেটা ডেসক্রিপশন ভিন্ন করতে হবে।

ইমেজ অপটিমাইজ এবং সাইট স্পিড

ইমেজ সার্চের জন্যে আমরা গুগল ইমেজ অপশনটি ব্যবহার করি। সেখানে কোন ছবি কিওয়ার্ড দিয়ে যখন গুগল দেখায় তার পেছনেও এসইওর মেকানিজম কাজ করে। সেই ছবিগুলো Alt Tag ও Caption এর মাধ্যমে অপটিমাইজ করা হয়ে থাকে। ইমেজ টি প্রপারটিজ করলে ডেটেইলস সেটিংস আসবে সেখানে Alt Tag ও Caption ব্যবহার করা যাবে।

আর ইমেইজের সাইজ ১০০ কেবির মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। অনলাইনে অনেক টুলের সাহায্যে ইমেজের মান ঠিক রেখে সাইজ ছোট করা যায়। কারনগুগল সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতির ওযেবসাইট পছন্দ করে। তাই কোন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করার পর গুগল পাঠককে সেই ওয়েবসাইটকেই আগে দেখাবে যার পেইজ স্পিড অন্যদের চেয়ে বেশি। তাই ওয়েবসাইটের লোডিং টাইমের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে ইমেজ অপ্টিমাইজেশনের গুরুপ্ত বেশি।

পাঠক যদি আপনার ওয়েবসাইটে এসে স্পিড কম হওয়ার কারণে প্রবেশ না করে চলে যায় সেটি গুগলের কাছে খারাপ বার্তা অটোমেটিক চলে যায়। পরবর্তীতে গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে সামনের পেইজে দেখাবে না। Google Page Speed Insights টুল এবং Gtmetrix. Com এর সাহায্যে আপনার ওয়েবসাইটে কি কি ইস্যু আছে চেক করে নিতে পারবেন।

ইন্টারনাল লিংকিং :

ইন্টানাল লিঙ্কিং এর বিষয়টা আমরা সবাই জানি। আমরা যখন কোন ওয়েবসাইটে কোন বিষয়ে পড়ি সেই কন্টেন্ট অন্য অনেকগুলো লিংক করা থাকে। এখানেও বিষয়টা একই। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন রিলেটেড পোস্টে ইন্টারনাল লিংকগুলো হয়। যেমন:- অন পেইজ এসইও কি ?

Anchor Text হিসেবে মেইন কিওয়ার্ড ব্যবহার করে যদি অনেকগুলো আর্টিকেল ইন্টারলিংক করা হয় তাহলে পাঠক আপনার ওয়েবসাইটে দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে। এটি ওয়েবসাইটের পেইজ ভিউ বৃদ্ধি করবে। যা র‌্যাংকিংয়ে সহায়তা প্রদান করে।

2 Comments on “অন পেজ এসইও কি ? বিস্তারিত”

Leave a Reply

Your email address will not be published.