কন্টেন্ট রাইটিং কি ? এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার নিয়ম !

কন্টেন্ট রাইটিং কি এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার নিয়ম,

সুপ্রিয় বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদের কন্টেন্ট রাইটিং কি ? এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার নিয়ম, কন্টেন্ট রাইটিং কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি এবং কিভাবে শুরু করবেন সহ বিস্তারিত আলোচনা করবো। এছাড়া আরোও বলবো একজন সেরা কন্টেন্ট রাইটার হতে কি কি প্রয়োজন হয়।

এই কন্টেন্ট টি কাদের জন্য?

  • যারা কন্টেন্ট রাইটিং শিখতে আগ্রহী
  • যারা কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী

এক নজরে একজন কন্টেন্ট রাইটার

  • সাধারণ পদবী: কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটার, কন্টেন্ট ডেভেলপার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
  • বিভাগ: গণমাধ্যম, মার্কেটিং, বিজ্ঞাপন ও সেলস।
  • প্রতিষ্ঠানের ধরন: ফ্রিল্যান্সিং, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি।
  • কাজের ধরন: ফুল-টাইম এবং পার্ট-টাইম।
  • লেভেল: লো, মিডিয়াম, হাই।
  • সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: 0 – 2 বছর।
  • সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳10,000 – ৳1,00,000+ যা কাজ, অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে
  • এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: 18 -35 বছর।
  • মূল স্কিল: আকর্ষণীয়, সুন্দর বা সাজিয়ে-গুজিয়ে লিখতে পারা, ইমেজ অপ্টিমাইজ ও কিওয়ার্ড রিসার্চ করার দক্ষতা।
  • বিশেষ স্কিল: অনলাইনে লেখার পারদর্শিতা।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি- মাস্টার্স।

কন্টেন্ট রাইটার কাকে বলে ?

কোন ব্যক্তি যখন নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা কৌশল এবং দক্ষতা ব্যবহার করে একটি কন্টেন্ট তৈরি করেন বা লিখেন তখন সেই ব্যক্তিকে বলা হয় কন্টেন্ট রাইটার।

উদাহরণঃ আমি আমার ব্লগ সাইট এর জন্য বিভিন্ন বিষয়ে কন্টেন্ট লিখে থাকি। সেহেতু আমি এই অনুচ্ছেদ টি লেখার মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করছি, এজন্য আমাকে একজন কন্টেন্ট রাইটার বলা যেতে পারে।

বর্তমান যুগ অনলাইন নির্ভর তাই ইন্টারনেটের এই যুগে বিভিন্ন কোম্পনি বা প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের প্রডাক্ট বা সার্ভিস গুলো অনলাইনে প্রচার করার জন্য কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ব্যবহার করে থাকে। আর এই প্রক্রিয়াতে বিজনেস, প্রডাক্ট, সার্ভিস বা ব্রান্ড এর উপর কন্টেন্ট লেখা হয়।

এই কন্টেন্ট গুলোকে ইন্টারনেটে পাবলিশ করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এছাড়া আপনি যদি মনে করেন ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম করার ক্ষেএেও নিজে পার্সোনাল ভাবে নিজের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে সেখানে নিজের লেখা আর্টিকেল / কন্টেন্ট লিখে পাবলিশ করতে পারবেন।

এভাবে ছোট বড় কোম্পনি, ফার্ম বা ব্লগিং এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভাবে অনলাইন ইনকাম করার জন্য কন্টেন্ট এর চাহিদা বর্তমানে প্রচুর পরিমানে। বর্তমানে আমরা সবাই ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার কারণে একজন কন্টেন্ট রাইটার এর চাহিদা অনেক এবং আপনি যদি একজন ভালো মানের কন্টেন্ট রাইটার হয়ে থাকেন তাহালে আপনার জন্য প্রচুর পরিমানে চাকরির সুযোগ রয়েছে।

মনে করুন, আপনার বিভিন্ন ব্লগ সাইট রয়েছে অনলাইনে। এবার আমার ব্লগে কন্টেন্ট লেখার উদ্দেশ্য বিভিন্ন কন্টেন্ট রাইটাররা নিজের ঘরে বসে আর্টিকেল লিখছে আমার ব্লগ সাইটে পাবলিশ করার জন্য। এতে করে আমার ব্লগের জন্য কন্টেন্ট লেখা কন্টেন্ট রাইটাররা ঘরে বসে টাকা আয় করার সুযোগ পাচ্ছে। এবার আপনারা ভাবুন কতটা সুবিধা এবং লাভজনক কাজ এটা।

তবে আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা কন্টেন্ট রাইটিং এর বিষয়ে ভালো করে জানে না। এজন্য আমি নিজে সম্পুর্ন সুন্দর করে বুঝিয়ে দিবো কন্টেন্ট রাইটিং কি। তাছাড়া আমি আরো কিছু কন্টেন্ট রাইটিং টিপস অবশ্যই দিবো, যাতে আপনারা সহজে শিখতে পারেন।

কন্টেন্ট কি ?

কন্টেন্ট কি ? এই বিষয়ে ভালো করে জানার জন্য প্রথমে আমাদের জানতে হবে কন্টেন্ট মানে কি সেই সম্পর্কে। এখানে বাংলাতে কন্টেন্ট এর মানে হলো বিষয়বস্তু। লেখনের উদ্দেশ্য করে কন্টেন্ট এর কথা বলা হয় তাহলে কন্টেন্ট বলতে, আপনি যেটা লিখছেন নিজের কৌশলের মাধ্যমে সেই বিষয় বস্তু তৈরি করেছেন সেটাই একসাথে কন্টেন্ট বলা যেতে পারে।

সহজ ভাবে বললে, যখন আপনি সম্পুর্ন নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান ব্যবহার করে একটি কন্টেন্ট লিখবেন তখন সেটাকে কন্টেন্ট বলা যায়। মনে করুন, আপনি একটি মোবাইলে ভিডিও রেকার্ড করে সেখানে কিছু তথ্য যুক্ত করে সুন্দর করে এডিট করলেন, তখন এই সম্পুর্ন ভিডিওকে একটি ভিডিও কন্টেন্ট বলতে পারবেন।

মনে রাখবেন কন্টেন্ট মানে শুধু লেখা হয় এমন বিষয়বস্তু কে বলা হয় না। সাধরণত কন্টেন্ট বলতে আমরা ৪ ধরনের বিষয়ে বুঝে থাকি, তা হচ্ছে-

  • Audio content: শব্দ বা ভয়েসের মাধ্যমে রেকর্ড করা কন্টেন্ট। যেমন, FM, podcast ইত্যাদি।
  • Text content: যে কন্টেন্ট গুলো লেখার মাধ্যমে তৈরি করা হয় সেগুলোকে টেক্সট কন্টেন্ট বলে। যেমন, আর্টিকেল এবং বই ইত্যাদি।
  • Image content: বিভিন্ন ধরনের ছবি এডিটিং করে তৈরি করা বিষয়বস্তু গুলোকে ইমেজ কন্টেন্ট বলা হয়। যেমন- Graphic, logo, template ইত্যাদি।
  • Video content: বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এক সাথে যুক্ত করে যে কন্টেন্ট গুলো তৈরি করা হয় সেগুলোকে বলা হয় ভিডিও কন্টেন্ট। যেমন – YouTube video, movies, web series ইত্যাদি।

কন্টেন্ট রাইটিং কি ?

কন্টেন্ট রাইটিং মানে হলো যে কোনো একটি বিষয়কে লেখনের মাধ্যমে সম্পুর্ন নিজের মতো করে তৈরি করা। সহজ ভাবে বললে, কন্টেন্ট রাইটিং মানে হলো এমন একটি লেখন যেখানে একাধিক বিষয়ের উপর তথ্য প্রদান করা হয়।

এই লেখা গুলো বিভিন্ন বিষয়ের উপর হতে পারে। যেমন- ব্লগ কন্টেন্ট, ষ্টোরি, পার্সোনাল রিভিউ, প্রডাক্ট প্রমোশন রিভিউ ইত্যাদি। কন্টেন্ট রাইটিং মূলত একটি বিষয়ের উপর কীওয়ার্ড রিচার্স করে লেখা হয়।

আর এই কীওয়ার্ড এর মাধ্যমে সেই কন্টেন্টকে বিভিন্ন জায়গায় সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে। আপনি যদি একজন সেরা কন্টেন্ট রাইটার হতে পারেন তাহলে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কন্টেন্ট রাইটিং জব করতে পারবেন । তাছাড়া আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ গুলো নিজের ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন।

কিভাবে কন্টেন্ট রাইটার হব ?

কন্টেন্ট রাইটার হবার জন্য কোনো কোর্স এর প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি শিক্ষিত ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং ভালো লিখতে ও পড়তে পারেন তাহলে আপনি ও একজন কন্টেন্ট রাইটার হতে পারবেন।
তবে, এর জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার লেখার মধ্যে রুচি থাকতে হবে। আপনি যদি নতুন করে কন্টেন্ট রাইটিং শিখতে চান এবং অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে চান তাহালে নিচে দেওয়া বিষয় গুলোর উপর নজর দিন।

  • ১. প্রথমে নিজের পছন্দমত টফিক (niche) বাছাই করতে হবে। মানে আপনি যে বিষয়ে ভালো জ্ঞান রয়েছে সেই বিষয়টা খুজে বের করুন।
  • ২. আপনি যখন নিজের পছন্দমত বা রুচি মতো টফিক খুঁজে পাবেন তখন ধীরে ধীরে একজন সফল কন্টেন্ট রাইটার এর দিকে এগিয়ে যাবেন।
  • ৩. আপনাকে সব সময় ক্রিয়েটিভ হতে হবে এবং নতুন নতুন কৌশল শিখতে হবে। আপনি ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে রাইটিং এর উপর স্কিল বাড়াতে পারবেন।
  • ৪. প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখতে থাকুন এবং নিজের ভুল গুলো শুধরাতে থাকুন। এতে ধীরে ধীরে আপনার রাইটিং এ উন্নত হবে।
  • ৫. ইন্টারনেটের বিভিন্ন ব্লগে গিয়ে দেখুন তাহলে কিভাবে আর্টিকেল গুলো লিখেছে।
  • ৬. নিজের লেখার ধারাবাহিতা বজায় রাখতে নিজে একটি ফ্রি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করুন এবং সেখানে প্রতিদিন নিজের পছন্দের বিষয়ে লিখতে থাকুন।
  • ৭. লেখার সময় অবশ্যই পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে। যদি না থাকে পড়ার অভ্যাস তাহালে অভ্যাস করে নিন। এতে আপনি অন্যদের লেখা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
  • ৮. আর্টিকেল লেখার সময় বাক্যের মধ্যে কিওয়ার্ড সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে। যদি না করেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করবে না। আপনার লেখা ভিজিটরদের পড়তে অসুবিধা যেন না হয়। এজন্য যে ভাষাতে লিখতে চাচ্ছেন সেই ভাষা সম্পর্কে ভালো করে শিখুন এবং জানুন।
  • ৯. আপনার লেখার মধ্যে অবশ্যই একটা মজার বিষয় থাকতে হবে। না হলে মানুষরা আর্টিকেল পড়তে পছন্দ করবে না। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন আকর্ষণীয় এবং মজার ধরণ দিয়ে আর্টিকেল লিখতে হবে।
  • ১০. যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখবেন সেই সম্পর্কে অবশ্যই রিচার্স করে সমস্ত তথ্যবহুল কন্টেন্ট লেখার চেষ্টা করবেন।

আরো পড়ুন:- এসইও’র ইতিহাস | এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

কন্টেন্ট রাইটিং কত প্রকার ?

অবশ্যই কন্টেন্ট রাইটিং এর কিছু প্রকারভেদ রয়েছে। ইন্টারনেটে এমন প্রচুর প্লাটফর্ম রয়েছে যেখানে আলাদা আলাদা রকমের কন্টেন্ট পাবলিশ করা হয়। যার ফলে বিভিন্ন প্লাটফর্মের চাহিদা অনুসারে তৈরি করা হয় আলাদা আলাদা রকমের কন্টেন্ট। একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসাবে আপনি নিচের রুচি মতো আলাদা আলাদা ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন। যেমন,

  • Blogging: এখানে সরাসরি কিছু বিষয়ের উপর বিস্তারিত ভাবে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করতে হয়। তথ্য বহুল আর্টিকেল বা কন্টেন্ট লেখা হয় ব্লগিং এর জন্য।
  • Copy writing: এখানে মূলত একটি কোম্পনির মার্কেটিং বা প্রচার করার জন্য এই ধরনের কন্টেন্ট লিখতে হয়। এই আর্টিকেল লেখার মুল উদ্দেশ্য হলো ব্র্যান্ড এর গুণমান সম্পর্কে মানুষের মাঝে প্রচার করে কেনার আগ্রহ বাড়িয়ে তোলা।
  • Social media: একটি কোম্পানি তাদের প্রডাক্ট বা সার্ভিস ইত্যাদি প্রচার বা মার্কেটিং করার জন্য অনলাইনে ব্র্যান্ড তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়াতে পেজ বা গুরুপ তৈরি করে ছোট ছোট মজার আকর্ষণীয় কন্টেন্ট লিখেন বা পাবলিশ করেন।
  • Creative writing: যে লেখার মাধ্যমে একজন রাইটার নিজের ক্রিয়েটিভি প্রদর্শন করে থাকে সেই রাইটিংকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং বলা হয়।
  • Expert writing: একজন বিশেষজ্ঞ রাইটার রা যখন যেকোনো বিষয়ে রিচার্স করে সম্পর্ন ডিটেলস সহ লেখেন তখন তাকে এক্সপার্ট রাইটিং বলা হয়।
  • News writing: এখানে নিউজ এর সাথে জড়িত সকল খবর গুলো লেখা হয়। এখানে ছোট ছোট শর্ট আর্টিকেল হিসাবে দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাবলি নিয়ে লেখা হয়। বিভিন্ন ধরের অনলাইন নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ পেজ, নিউজ ওয়েবসাইট গুলোতে নিউজ রাইটিং করা হয়।

বর্তমান সময়ে অনলাইন ব্যবসা গুলোর প্রচার, ব্র্যান্ডিং, বা মার্কেটিং করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের কন্টেন্ট রাইটিং প্রচুুর পরিমানে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া আপনি নিজের পছন্দমত বিষয়ে কন্টেন্ট রাইটিং করতে পারবেন।

আরো পড়ুন:- এসইও কি ? কিভাবে এসইও শিখবো ? বিস্তারিত

এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট রাইটার হতে যা যা শিখতে হবে –

  • SEO:- আপনি যদি একজন কনটেন্ট রাইটার হতে চান এবং সঠিকভাবে কনটেন্ট রাইটিং শিখতে চান তাহলে আপনার জন্য অবশ্যই এসইও জানতে হবে। কারণ আপনি চিন্তা করুন একজন মানুষ কেন আপনার কাছ থেকে কনটেন্ট নিবে ? সোজা কথা সেটা হচ্ছে – রেংক করানোর জন্য, মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন লাগবে।

    যে কোন কিছু সম্পর্কে জানার জন্য প্রথমে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে। আর সার্চ রেজাল্ট আপনি যত উপরে থাকবেন ততই আপনার আর্টিকেলটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। তাই একজন কনটেন্ট রাইটার হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে অবশ্যই এসইও জানতে হবে।
  • Keyword Rearch:- আরেকটি গুরুপ্তপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্স। কিওয়ার্ড রিসার্স সম্পর্কে ধারনা থাকলে তাহলে আপনি কোন ভাবেই কনটেন্ট রাইটার পারবেন না।
  • Image Optimization:- ইমেজ অপ্টিমাইজেশন কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য বিশেষ ভুমিকা পালন করে। কেননা একটি মান সম্মত কন্টেন্ট এ ফিচার ইমেজ সহ বেশ কয়েকটি ইমেজ ও ব্যবহার করা হয়। যা র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে খুবই গুরুপ্তপূর্ণ্য ।
  • Keyword Density:- Keyword density এমন একটি সংখ্যা বা পরিমাপ যার উপর নির্ভর করে আমরা ব্লগের আর্টিকেলের মধ্যে কীওয়ার্ড ব্যবহার করি।

    উদাহরণ: আপনি এসইও কি ? নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখছেন। আপানার বাছাইকৃত কিওয়ার্ড হতে পারে- বাংলা এসইও টিউটোরিয়াল, SEO কিভাবে শিখবো, SEO করার নিয়ম, এসইও বাংলা টিউটোরিয়াল, এসইও শিখতে কত দিন লাগে, এসইও এর গুরুত্ব ইত্যাদি। 

    এবার আপনার বাছাইকৃত keyword গুলো ব্লগের আর্টিকেলের মধ্যে কতবার উল্লেখ করবেন সেই পরিমাপকে keyword density বলে। সব সময় keyword density মেনে আর্টিকেল লেখা জরুরি। আপনি যদি আর্টিকেলের মধ্যে মন মতো/ঘনঘন keyword ব্যবহার করেন তাহলে google search algorithm আপনার আর্টিকেলকে penalize করতে পারেন। সুতরাং আমাদের নরমালী কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
  • Title এ Keyword:- আপনি কোন বিষয়ে আর্টিকেল লিখেছেন সেটা যেন আর্টিকেলের টাইটেল (title) থাকে । তাহলে সহজে ভিজিটররা বুঝতে পারে। এবার আর্টিকেলের মধ্যে টার্গেট keyword অবশ্যই রাখতে হবে। এতে সার্চ ইঞ্জিন এবং ভিজিটর্সরা আপনার টাইটেল পড়ে সহজে বুঝতে পারবে।

    এই আর্টিকেলটি কিসের উপর লেখা হয়েছে। আপনি আমার এই আর্টিকেলের টাইটেল দেখে বুঝতে পাচ্ছেন। এটা আমার keyword. তাছাড়া আমি এই keyword এর সাথে আরও কিছু কিওয়ার্ড টার্গেট করেছি। এই ভাবে আপনার টার্গেট করা কিওয়ার্ড সব সময় আর্টিকেলের টাইটেলে রাখবেন।
  • URL Address এ Keyword:- আপনি ব্লগার  বা ওয়ার্ডপ্রেস যেটাই ব্যবহার করেন না কেন আর্টিকেল লেখার সময় আর্টিকেলের URL address অপশন পেয়ে যাবেন। আপনি URL address এডিট করে সেখানে টার্গেট করা keyword বসিয়ে দিবেন। সাথে সাথে আর্টিকেলের URL address সব সময় ছোট করে দিবেন।
  • Content Size:- ব্লগের আর্টিকেল সব সময় ১০০০ শব্দের বেশি লেখার চেষ্ট করবেন। যদি পারেন তাহলে ২৫০০ শব্দের মধ্যে লেখার চেষ্টা করবেন। যত বেশি তথ্য বহুল লিখবেন ততই বেশি গুগল সার্চ ইঞ্জিন আপনার লেখাকে পছন্দ করবে।

    গুগল সব সময় লং কিওয়ার্ড কে বেশি value দেয় এবং এর মাধ্যমে প্রচুর ট্রাফিক পাবেন। তাছাড়া ভিজিটররা যত বেশি সময় ধরে আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে থাকবে ততই বেশি ওয়েবসাইট রেংক করবে। আর যদি পারেন তাহালে ২০০০ থেকে ৩০০০ শব্দের বেশি আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন। মেমন – আমার এই কন্টেন্ট টিতে ওয়ার্ড সংখ্যা ২০০০ +।
  • H tag:- H tag বলতে H1, H2, H3, H4 এই ট্যাগ গুলো আর্টিকেলের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে seo এর জন্য। H tag গুলো ভিজিটর দের আর্টিকেল গুলো পড়তে অনেক সহজ করে দেয় এবং আর্টিকেল স্পষ্ট ও সুন্দর দেখায়। তাছাড়া আর্টিকেল লেখার সময় অবশ্যই ১/২ টি H1 tag এর মধ্যে LSI keyword ব্যবহার করবেন। এতে সহজে সার্চ ইঞ্জিন আপনার আর্টিকেলের বিষয় বুঝতে পারে।
  • Inter Link & Outbound Link:- আপনি ব্লগে আর্টিকেল পাবলিশ করার সময় আপনার টফিকের সাথে মিল থাকা আপনার অন্যে যে আর্টিকেল গুলো আগে পাবলিশ করেছিলেন সেই আর্টিকেলের লিংক কপি করে এই আর্টিকেলে বসিয়ে দিবেন। তাহালে আপনার আর্টিকেলের সাথে inter linking হয়ে যাবে। যেমন- অন পেজ এসইও কি ? বিস্তারিত

    আর আউটবন্ড লিংক হচ্ছে আপনার কন্টেন্ট এ অন্যকোন সাইটের লিংক দেয়া যেমন- Google, Facebook । মনে রাখবেন ইন্টারনাল লিংক ও আউটবন্ড লিংক এসইও এর জন্য খুবই জরুরি।

কন্টেন্ট রাইটিং এর ভবিষ্যৎ কী?

ইন্টারনেটের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়ে চলেছে কন্টেন্ট রাইটিং এর চাহিদা। আর বাড়বেই না কেন! যেকোনো ধরনের ডিজিটাল উপস্থিতি অথবা ইন্টারনেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করণের পূর্বেই প্রয়োজন পড়ে কন্টেন্টের।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা বিল গেটস 1996 সালের এক বক্তব্যে বলেন, কন্টেন্ট ইজ কিং। বিষয়টি হয়তো এমনই রয়ে যাবে। কারণ নানা ধরনের কাজে রোবট বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা গেলেও এসইও ফ্রেন্ডলি মান সম্মত লেখালেখির ক্ষেত্রে তা এখনও অসম্ভবই রয়ে গেছে। আর ভবিষ্যতেও হবে কিনা এ ব্যাপারে এখনও সন্দেহ রয়েছে।

একজন কন্টেন্ট রাইটারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয় ?

বাংলায় লিখতে চাইলে বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণের উপর ভালো জ্ঞান ইংরেজিতে লিখতে চাইলে ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণের উপর ভালো জ্ঞান কোন বিষয় নিয়ে গবেষণা করার দক্ষতা সহজেই বোঝা যায়, এমনভাবে লেখার ক্ষমতা লেখার ভেতর বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে পারা ঠিক বানানে দ্রুত লেখার অভ্যাস টেকনিক্যাল বিষয়ে লিখতে হলে সে বিষয়ের উপর দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা থাকা জরুরি।

যেমনঃ ইতিহাসের ছাত্র হয়ে থাকলে মেডিকেল প্রযুক্তি নিয়ে লেখা আপনার জন্য কষ্টসাধ্য হবে। অনলাইনে কাজ করার জন্য কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (যেমনঃ ওয়ার্ডপ্রেস) আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) নিয়ে ভালো ধারণা থাকলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে অনেক।

2 Comments on “কন্টেন্ট রাইটিং কি ? এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার নিয়ম !”

Leave a Reply

Your email address will not be published.