টেকনিক্যাল এসইও কি ? বিস্তারিত

টেকনিক্যাল এসইও কি

আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের টেকনিক্যাল এসইও কি ? কিভাবে টেকনিক্যাল এসইও করবো এবং ওয়েবসাইটে টেকনিক্যাল এসইও’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবো। তো চলুন শুরু করা যাক।

SEO এমন একটি সিস্টেম যার মাধ্যমে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে কোন একটা ওয়েবসাইট থেকে বেশি পরিমাণে ভিজিটর নিয়ে আসা যায়। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ৩ টি ধাপে । যার মধ্যে রয়েছে  অনপেজ, অফপেজ, এবং টেকনিক্যাল এসইও। আজকে আমরা শিখবো টেকনিক্যাল এসইও কি? কিভাবে টেকনিক্যাল এসইও করবো? এই সম্পর্কে।

টেকনিক্যাল এসইও কি ?

টেকনিক্যাল এসইওঃ টেকনিক্যাল এসইও হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যা একটি ওয়েবসাইটকে অরগানিক রেংকিং পাওয়ার জন্য আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনগুলির প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে।

টেকনিক্যাল এসইও’র প্রয়োজনীয়তা :

আপনার ওয়েবসাইটে অনপেজ এসইও এবং অফপেজ এসইও টেকনিক সঠিকভাবে ব্যবহার করে থাকেন তার মানে এই না যে আপনি সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে অবশ্যই রেংক করবেন। কারণ হল আপনার ওয়েবসাইটে যদি টেকনিক্যাল এসইও সম্পর্কিত কোন সমস্যা থাকে বা সঠিক না থাকে তাহলে এটা নিশ্চিত যে আপনি সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে র‌্যাঙ্ক করতে পারবেন না।

টেকনিক্যাল এসইও’র প্রক্রিয়া সমুহঃ

  • ওয়েবসাইট স্ট্রাকচার
  • ‍সুন্দর ডিজাইন
  • পেজ লোডিং স্পীড
  • মোবাইল ফ্রেন্ডলী
  • সাইটম্যাপ
  • রোবট টেক্সট ফাইল
  • এস এস এল সার্টিফিকেট
  • ফিক্সড ব্রোকেন লিংক
  • Crawl এরর/ইস্যু মুক্ত রাখা
  • ইউ আর এল স্ট্রাকচার
  • স্ট্রাকচার্ড ডাটা
  • থিন কনটেন্ট
  • ডুপ্লিকেট কনটেন্ট
  • ক্যানোনিকাল ট্যাগ
  • ৪০৪ এরর মুক্ত রাখা
  • ৩০১ রিডাইরেক্ট

নিচে আমরা পর্যায়ক্রমে সবগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ওয়েবসাইট স্ট্রাকচার এবং ডিজাইন : ওয়েবসাইট স্ট্রাকচার এবং সুন্দর ডিজাইন যদি ভালো ও সুগঠিত হয় তাহলে স্বাভাবিক যে, ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইট কে বেশি পছন্দ করবে। আর ভিজিটররা যত বেশি আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সার্চ ইঞ্জিনগুলিও আপনার ওয়েবসাইট  তত বেশি পছন্দ করবে এবং রেংক করতে সহায়তা করবে।

পেজ লোডিং স্পীড: প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিনের জন্যই পেজ লোডিং স্পিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । পেজ লোডিং টাইমের উপরে কোন একটি ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং অনেকাংশে নির্ভর করে। আর প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিন এই বিষয়টিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয় । বিশেষ করে মোবাইল পেজ স্পীড ।

কারন হল আপনার ওয়েবসাইটের পেজ স্পীড ধীর গতির হওয়ার জন্য ওয়েবসাইটের কনভার্সন রেট অনেক কমে যাবে তার সাথে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট অনেক বেড়ে যাবে আপনি GTMetrix, Google Page Insight , অথবা Pingdom Website Speed Test এই রকম টুলগুলির মাধ্যমে আপনার  ওয়েবসাইটের স্পীড চেক করতে পারেন এবং এরর গুলো খুঁজে বের করে সমাধান করার পরে পেজ লোডিং স্পীড বাড়াতে পারেন।

মোবাইল ইউজেবিলিটি:  বর্তমান সময়ে যেকোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করার ক্ষেত্রে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। যেসব ওয়েবসাইট গুলো মোবাইল ফ্রেন্ডলি এবং ফাস্ট লোডিং স্পীড সেগুলোকে সার্চ ইঞ্জিন বেশি গুরুত্ব দেয়।

ওয়েবসাইট বানানোর সময় তাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেস্ট করতে হয়। যদি কোন ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি না হয় সেক্ষেত্রে ঐ ওয়েবসাইটের গ্রহণ যোগ্যতা থাকে না সার্চ ইঞ্জিন গুলোর কাছে তেমন। তাই ওয়েবসাইট বানানোর সময় অবশ্যই সেটাকে রেসপনসিভ এবং যেকোন ডিভাইসে যাতে দ্রুত লোড সেরকম ভাবে বানাতে হবে। মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেস্ট করার জন্য প্রয়োজনে  Google Mobile Friendly Test নামের টুলস টি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এস এস এল সার্টিফিকেট: SSL এর পূর্ণ রপ Secure Sockets Layer। কোন একটি ওয়েবসাইটকে নিরাপদ করার জন্য SSL Certificate ব্যবহৃত হয়।  ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্কিং এর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। SSL সার্টিফিকেট আপনার ওয়েবসাইটকে HTTP থেকে HTTPS করে দেয় যা আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর ও কাস্টমারদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

প্রতিটি ওয়েবসাইটেই এস এস এল সার্টিফিকেট Install করতে হয়। ইন্সটল করলে ওয়েবসাইটটিতে https কার্যকর হয়। যদি আপনার ওয়েবসাইটে  SSL সার্টিফিকেট ইনস্টল করা না থাকে তাহলে URL বারের বাম দিকে “ Your connection to this site is not secure” লাল কালারের একটি মেসেজ শো করবে।

যদি আপনার  ওয়েবসাইটে SSL সার্টিফিকেট ইনস্টল করা থাকে সেই ক্ষেত্রে সেখানে একটি লক আইকন থাকবে যা ক্লিক করলে “Connection is secure” সবুজ কালারের ম্যাসেজটি শো করবে। এখন প্রায় সমস্ত ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি প্রথম বছরের জন্য তাদের প্যাকেজের সাথে ফ্রিতে SSL certificate প্রদান করে থাকে।

Read More:- পোস্ট গুগল ইনডেক্স সমস্যা ও সমাধান

ফিক্স ব্রোকেন লিংক: ব্রোকেন লিংক হচ্ছে সেই সকল লিংক, যে গুলো ঠিকমত কাজ করে না। অর্থাৎ যখন ওয়েবসাইটে রেফার করা কোন লিংক ক্লিক করা হয় ঐ লিংক গুলাতে তখন কোন ফলাফল দেখায় না। সেগুলাই মূলত ব্রোকেন লিংক। 

এসব লিংক ওয়েবসাইটের জন্য খুবই  বিপদজনক। ওয়েবসাইটে অধিক পরিমাণে ব্রোকেন লিংক থাকলে সাইটের গ্রহণ যোগ্যতা হ্রাস পায় সার্চ ইঞ্জিন’র কাছে। যা আপনার ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে এবং এর পাশাপাশি গুগল অ্যাডসেন্স এর মধ্যেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।  কোন একটি ওয়েবসাইটে পোষ্টের বা পেজের সংখ্যা যত বেশি হবে ব্রোকেন লিংকের সংখ্যাও বেড়ে যাবে। ব্রোকেন লিংক চেকার টুলস দ্বারা খুব সহজেই ব্রোকেন লিংকগুলো খুজে বের করা যায় । পরবর্তীতে সেই লিংক গুলোকে রিডাইরেক্ট করে নিতে হয়।

Crawler এরর মুক্ত রাখা: আপনার ওয়েবসাইটটি Crawler এরর মুক্ত রাখতে হবে। তা না হলে সার্চ ইঞ্জিন বট আপনার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারবে না। ফলে আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পেজ এবং পোস্ট ইনডেক্সিং হবে না। আপনি র‍্যাঙ্কিং এ আসতে পারবেন না। Crawler এরর গুলো আপনি গুগল সার্চ কনসোল এর  Covarage অপশন থেকে  জানতে পারবেন।

ইউ আর এল স্ট্রাকচার (URL structure): কোন একটি সাইট রেংকিং আসার জন্য ইউ আর এল গুরুপ্তপূন্য ভুমিকা পালন করে। একটি ভাল ইউ আর এল লেখার নিয়মসমুহঃ

  • Remove Extra Words
  • Relevant Keywords
  • Easily Readable
  • Utilize Hyphens and Underscores
  • Match URL and Titles
  • Short URL Is Best
  • Case sensitivity
  • Avoid keyword stuffing

স্ট্রাকচার্ড ডেটা: কোন একটি ওয়েবপৃষ্ঠার কন্টেন্ট বোঝার জন্য সার্চ ইঞ্জিন গুলো বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ওয়েবপৃষ্ঠায় স্ট্রাকচার্ড ডেটা ব্যবহার করে আপনি সার্চইঞ্জিন গুলোকে ওয়েবপৃষ্ঠার মানে বুঝতে সাহায্য করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে structured data এই লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।

থিন কনটেন্ট: থিন কনটেন্ট বলতে, কোন একটি ওয়েব পৃষ্ঠায় বা ব্লগপোস্টে যদি খুব অল্প পরিমান কনটেন্ট থাকে তখন ঐ কনটেন্ট গুলিকে থিন কনটেন্ট বলে। এসব কনটেন্টের ভ্যালু ব্যবহার কারীদের কাছে নেই বললেই চলে। এমনকি সার্চ ইঞ্জিন গুলোর কাছেও এই কনটেন্টের কোন ভ্যালু থাকে না। সর্বোপরি, গুগল এসব পৃষ্ঠাগুলি পছন্দ করে না যেগুলি ঘন ঘন কীওয়ার্ড ব্যবহার করা থাকে ।

Read More:- টেকনিক্যাল এসইও কি ? বিস্তারিত গাইডলাইন।

ডুপ্লিকেট কনটেন্ট: ডুপ্লিকেট কনটেন্ট বলতে এমন একটি কনটেন্টকে বোঝায় যা ইন্টারনেটে একাধিক জায়গায় প্রদর্শিত হয়। যদি একই বিষয়বস্তু একাধিক ওয়েব ঠিকানায় প্রদর্শিত হয়, তাহলে আপনি ডুপ্লিকেট কনটেন্ট পেয়েছেন। প্রযুক্তিগতভাবে জরিমানা না হলেও, ডুপ্লিকেট কনটেন্ট কখনও অনুসন্ধান ইঞ্জিনের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

যখন একই বিষয়বস্তু একাধিক ওয়েব ঠিকানায় প্রদর্শিত হয় তখন সার্চ ইঞ্জিন গুলোর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পরে যে কোন প্রদত্ত অনুসন্ধানের প্রশ্নের সাথে কোন সংস্করণটি বেশি প্রাসঙ্গিক ।

৪০৪ পেজ এরর মুক্ত রাখা: অনিবার্য কারণ বসত আপনার ওয়েবসাইটের কোনো একটি পেজ ডিলিট হয়ে গেছে বা আপনি কোনো কারণে তা ডিলিট করে দিয়েছেন। আবার সার্চ ইঞ্জিন গুলি যদি ঐ পেজ বা পোস্ট টিকে ইনডেক্স করে থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে কেউ যদি আপনার ডিলিট হওয়া পেজেটিতে বা পোস্টটিতে ভিজিট করে তাহলে সে 404 বা Page not found মেসেজটি দেখতে পাবে।

ওয়েবসাইটে অল্প পরিমান পেজ বা পোস্ট থাকলে সেই ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হয় না কিন্তু যদি আপনার ওয়েবসাইটে ২৫০-৫০০ পোস্ট থাকে সেই ক্ষেত্রে অনেক 404 Errors আসতে পারে। যার ফলে সাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যায় এবং ওয়েবসাইট র‍্যাংকিং বাধাগ্রস্থ করে। সুতরাং এই বিষয়টিও সতর্কতার সহিত লক্ষ্য রাখা উচিত । আপনি চাইলে এই বিষয়গুলি গুগল সার্চ কনসোল(Google Search Console) থেকে জানতে পারবেন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

পরিশেষে একটি কথা, এসইও একটি অন গোয়িং প্রসেস। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের অনপেজ ,অফপেজ এবং টেকনিক্যাল এসইও এই বিষয়গুলির অপটিমাইজেশন সঠিকভাবে করতে পারেন তবে SERP এ আপনার ওয়েবসাইটের ভালো অবস্থান দেখতে পাবেন আশা করি।

টেকনিক্যাল এসইও নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, আমাদেরকে নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.